সবার আগে ছিল আই এফ এ-র সম্মান

ডঃ নীলিমেশ রায়চৌধুরী

(রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব)

তাঁর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল না। তাঁকে যতটা দেখেছি দূর থেকে। তাঁর সম্পর্কে জেনেছি খবরের কাগজের মাধ্যমে। যতটুকু দেখেছি এবং জেনেছি তাতে প্রদ্যুত দত্ত সম্পর্কে একটা ব্যাপার লক্ষ করেছি তাহল আই এফ এ পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থাৎ প্রশাসক হিসাবে তাঁর চিন্তাধারা ছিল অন্যরকম। পূর্বসূরি কোনও সচিব বা শীর্ষকর্তাকে অনুসরণ করে তিনি ফুটবল সংস্থা পরিচালনা করেননি। তিনি কাজ করেছেন নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে। সেক্ষেত্রে তিনি কঠোর হতেও দ্বিধা করেননি।

অনেকে হয়তো ভাবতে পারেন মেজদাদা বিশ্বনাথ দত্ত-র সাহায্যে তিনি আই এফ এ-র সচিব হতে পেরেছেন। এই ধারণাটা একদমই ঠিক নয়। কারণ প্রদ্যুত দত্ত সংগঠক হিসাবে তাঁর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাব থেকে। যতদূর জানি জর্জ টেলিগ্রাফ ক্লাব পরিচালনার সময় থেকেই তৎকালীন আই এফ এ-র পরিচালকদের অনেক কাজকর্মই পছন্দ হত না

প্রদ্যুতবাবুর। সেই কারণে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে ময়দানের বেশ কিছু ক্লাবকে সংগঠিত করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছিলেন। এক্ষেত্রে দাদা বিশ্বনাথ দত্ত-র কোনও সহযোগিতা ছিল না। একটু চাপা স্বভাবের ছিলেন। প্রচারের বাইরে থেকে লক্ষ্যে পৌঁছেছেন।

আইএফএ পরিচালনার ক্ষেত্রে বলতেই হবে তিনি চলতেন নিজস্ব চিন্তাধারায়। এক্ষেত্রে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। এককথায় ব্যতিক্রমী প্রশাসক। আবার নিজস্ব চিন্তাধারার শামিল হতে অন্যদের প্রভাবিত করেছেন বলে শুনিনি।

নিজস্বতার কথা বলছিলাম। তার জ্বলন্ত উদাহরণ ১৯৮৮ সালে শিলিগুড়িতে নেহরু গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট। তাঁর আগে বিশ্বনাথ দত্ত আই.এফ.এ শিল্ডের খেলা জেলার মাঠে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি জুনিয়র ন্যাশনালের খেলাও পরিচালনা করেছিলেন কৃষ্ণনগর থেকে। এসবই ছিল সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা। সেক্ষেত্রে প্রদ্যুত দত্ত বড় ধরনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন ১৯৮৮ সালে নেহরু গোল্ড কাপের মতো আন্তর্জাতিক মানের একটা ফুটবল প্রতিযোগিতা শিলিগুড়ি থেকে পরিচালনা করে। তিনি ছিলেন যথার্থই একজন দেশপ্রেমিক। স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উৎসবকে সামনে রেখে যেমন ১৯৮৮ সালে নেহরু গোল্ড কাপকে বেছে নিয়েছিলেন সেরকম ১৯৮৭ সালে কলকাতায় আয়োজিত জাতীয় ফুটবল সন্তোষ ট্রফির ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসাবে পাঞ্জাব থেকে উড়িয়ে এনেছিলেন জার্নেল সিং-কে। এ ব্যাপারে প্রাদেশিকতার উঠে সম্মানিত করেছিলেন মোহনবাগান রত্ন-কে।

নিজে ছোট ক্লাব থেকে আই এফ এ-র শীর্ষপদে উঠেছেন। স্বভাবতই ময়দানের ছোট ক্লাবগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাই বলে কোনও বিশেষ ক্লাবের প্রতি তাঁর দুর্বলতা ছিল না। এমনকী নিজেদের ক্লাব জর্জ টেলিগ্রাফের প্রতিও। পাশাপাশি বড় কোনও ক্লাবের প্রতিও তাঁর দুর্বলতা ছিল না। তাঁর কাছে সবার আগে ছিল আইএফএ-র সম্মান বজায় রাখা। এ ব্যাপারে তিনি প্রয়োজনে তিন বড় ক্লাবের বিপক্ষেও কঠোর হয়েছেন। ঐতিহ্যশালী মহামেডান ক্লাবকে সাসপেন্ড করতে যেমন দ্বিধা করেননি সেরকমই ইষ্টবেঙ্গল ১৯৮৯ সালে এবং মোহনবাগান ১৯৯১ সালে আই এফ এ শিল্ডে খেলতে অস্বীকার করার পরেও পিছপা হননি। এক্ষেত্রে কোনও বিশেষ ক্লাবের প্রতি দুর্বলতা দেখিনি। সবসময়ই স্বচ্ছতার সঙ্গে সংস্থা পরিচালনা করেছেন।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com