স্বপ্নবিলাসী ছিলেন

মানস চক্রবর্তী

(বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক)

১৯৯৩-এর ফুটবল মরশুমের শুরু। বছরটা ছিল আই এফ এ-র শতবর্ষ। কিন্তু সে বছরেই কলকাতা ফুটবল প্রায় লাটে ওঠার অবস্থা। প্রদ্যুত দত্ত চেয়েছিলেন ফুটবলকে রুটির সঙ্গে যুক্ত করতে। পেশাদারি ফুটবলের আগের ধাপ। তাই এক সঙ্গে চারটি অফিস টিমকে প্রিমিয়ার ডিভিশনে খেলানোর ব্যবস্থা করলেন। পিয়ারলেস, ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফ সি আই), স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া (সেইল) এবং কোল ইন্ডিয়া। মোহনবাগান ক্লাব তীব্র বিরোধিতা করল। দলবদল শিকেয়। ময়দানে অচলাবস্থা। শেষ পর্যন্ত অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, অনেক রকম সমঝোতা করে চারটি দলকে প্রিমিয়ারে নয়, এক বছর খেলতে হল প্রথম ডিভিশনে। সেখান থেকে তারা উঠে এল প্রিমিয়ারে।

সেই চারটি টিমেরই একটি, পিয়ারলেস ২০১৯ সালে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হল। তিন প্রধানের বাইরে এর আগে শুধু চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইস্টার্ন রেল। ১৯৫৮ সালে। তারপর একান্ন বছর পর একটা যুগান্তকারী ঘটনা কলকাতা ফুটবলে। এই সময় সেই মানুষটার কথা বেশি করে মনে পড়তে বাধ্য। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি ছিলেন স্বপ্নবিলাসী। চাইতেন কলকাতা ফুটবলের উন্নতি। আর কে না জানে কলকাতা ফুটবলের ভাল হলে ভারতীয় ফুটবলের ভাল হবে।

প্রদ্যুত দত্ত চলে গেছেন ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর। নেহাতই অকালমৃত্যু। আইএফএ সচিব হয়েছিলেন ১৯৮৫ সালে। আমৃত্যু ছিলেন সেই পদে। আর এই ৯ বছরে করতে চেয়েছিলেন অনেক কিছু। বেশির ভাগই যুগান্তকারী। যেমন অধুনালুপ্ত নেহরু গোল্ড কাপ শুরু হয়েছিল কলকাতায় ১৯৮২ সালে। আবার ১৯৮৪ সালের নেহরু কাপও হয়েছিল কলকাতায়। তারপর আবার ১৯৮৮ সালে। কিন্তু প্রদ্যুতবাবুর আমলে যখন আইএফএ দায়িত্ব পেল নেহরু কাপের তখন তিনি তা কলকাতা থেকে তুলে নিয়ে ফেললেন শিলিগুড়িতে। অনেক সমালোচনা হল। অনেকে বলল, এটা হঠকারী সিদ্ধান্ত। শিলিগুড়িতে তেমন পরিকাঠামো কোথায়? না আছে ভাল স্টেডিয়াম, না আছে ভাল হোটেল। শেষ পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন চ্যাম্পিয়ন হল, তখন কিন্তু কোনও অভিযোগ ছিল না। না স্টেডিয়াম নিয়ে, না হোটেল নিয়ে। ঘটনাটা ১৯৮৮ সালের।

জন্ম হল এক নতুন ফুটবল শহরের। তারপর থেকে শিলিগুড়িতে কী হয়নি? সব কিছুই হয়েছে। ফেডারেশন কাপ, জাতীয় লিগ, আই লিগ, এয়ারলাইন্স কাপ। এমন কী রঞ্জি ট্রফির ম্যাচও হয়েছে শিলিগুড়িতে। কলকাতার বাইরে শিলিগুড়িকে দ্বিতীয় ফুটবল নগরী করে গেছেন প্রদ্যুত দত্ত। বাংলার ফুটবল তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ থাকতে বাধ্য।

শুধু নেহরু কাপকে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়াই নয়, কলকাতা ফুটবলে অনেক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। যেমন তিনি যখন দায়িত্ব নিলেন তখন কলকাতা প্রথম ডিভিশনে সাতাশটি দল। একটা টিমকে খেলতে হয় ছাব্বিশটা ম্যাচ। কিন্তু ওপরের দিকের দলগুলির সঙ্গে নিচের দিকের দলগুলির বিরাট পার্থক্য। অনেক ম্যাচ পরিণত হত প্রহসনে। দায়িত্ব নিয়েই তিনি প্রথম ডিভিশনকে দুটো গ্রুপে ভাগ করলেন। এ গ্রুপে পনেরটি দল, বি গ্রুপে বারোটি। এবং রিটার্ন লিগ। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানকে খেলতে হত ২৮টি ম্যাচ। সত্যিকারের লিগ। মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ম্যারাথন লিগ, যাকে বলে। আজকের মতো লিলিপুট লিগ নয়। কিন্তু পঁচাশি থেকে ঊননব্বই - পাঁচ বছর এই ভাবে চলার পর তিনি চালু করলেন প্রিমিয়ার লিগ। দশটি টিম নিয়ে। রিটার্ন লিগ নিয়ে আঠারোটা ম্যাচ। লিগ জমজমাট। সত্যি কথা বলতে কী, ১৯৯০ থেকে অন্তত দশ বছর কলকাতা লিগে যা লড়াই আমরা দেখেছি তা আজকের দিনে গল্পকথা।

(২)

কলকাতা লিগের পর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল আইএফএ শিল্ড। প্রদ্যুতবাবু দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্ডকে বর্ণাঢ্যভাবে করার কথা ভাবলেন। প্রথম বছরেই এল রাশিয়া থেকে শাখতার এবং উরুগুয়ে থেকে পেনারোল। সঙ্গে আমাদের তিন প্রধান তো ছিলই। দুর্দান্ত হয়েছিল সেবারের শিল্ড। ফাইনালে দুই বিদেশি দলের খেলা দেখতে ভেঙে পড়েছিল সল্টলেক স্টেডিয়াম। সেই প্রথম শিল্ড গেল বিদেশে। শিল্ড নিয়ে গেল উরুগুয়ের পেনারোল। তার তিন বছর আগে কলকাতা থেকে নেহরু গোল্ড কাপ নিয়ে গিয়েছিল উরুগুয়ে। পরের বছর শিল্ডেও এল নাইজিরিয়ার ল্যাভেন্টিস। বেশ ভাল দল। যদিও তারা ফাইনালে উঠতে পারেনি। সেমিফাইনালে তাদের হারায় ইস্টবেঙ্গল। নিজের দেশের টিমের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করেছিলেন পরবর্তীকালে নাইজিরিয়ার হয়ে বিশ্ব কাপ খেলা এমেকা এজুকো। এমেকার তারকা হয়ে ওঠা এই ছিয়াশির শিল্ডেই। পরের ক বছর শিল্ডে সে রকম বলার মতো বিদেশি দল না আনলে কী হবে তাঁর আমলের শেষ শিল্ডে কিন্তু এসেছিল পাখতাখোর এবং পাভলোদর। অধুনালুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সেরা দুই দেশের সেরা দুই দল। শিল্ড ফাইনাল হয়েছিল মোহনবাগান মাঠে। দুই প্রধানকে হারিয়ে দুই বিদেশি দল উঠেছিল ফাইনালে। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাখতাকোর।

পরবর্তীকালে শিল্ডে বিদেশি দলকে নিয়ে অনেক অন্যায় হয়েছে। যেমন ২০০১ সালের ফাইনালে ব্রাজিলের পামেইরাস ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। সল্টলেক স্টেডিয়ামে দর্শক হামলায় ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। আইএফএ ইস্ট বেঙ্গলকে জয়ী ঘোষণা করে দেয়। পামেইরাস এর প্রতিবাদে ফিফায় যায়। ফিফা শাস্তি স্বরূপ শিল্ডে বিদেশি টিমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০০২ এবং ২০০৩ সালে শিল্ড হয়েছিল বিদেশি দল ছাড়াই। আবার ২০০৪ সালে শিল্ডে বিদেশি দল আসা শুরু হয়। কিন্তু গত চার বছর তো শিল্ড হয়ে গেছে আন্ডার নাইনটিন!

শুধু শিল্ডের জৌলুস বাড়ানোই নয়, সন্তোষ ট্রফি নিয়েও বেশ ভালভাবেই মেতেছিলেন প্রদ্যুতবাবু। তাঁর আমলের প্রথম সন্তোষ ট্রফি ছিল ১৯৮৬ সালে। দায়িত্ব নিয়েই তিনি কোচ করে আনেন অমল দত্তকে। ১৯৬৩ সাল থেকে কোচিং করাচ্ছেন অমল দত্ত। প্রদ্যুতবাবুর আগে তাঁকে বাংলার কোচ করার কথা কেউ ভাবেননি। তিনিই প্রথম এই কথাটা ভেবেছিলেন। বাংলার সেরা দল পাঠিয়েছিলেন জব্বলপুরে। গোটা টুর্নামেন্টে বাংলা একটাও গোল খায়নি। ফাইনালে হেরে যায় পাঞ্জাবের কাছে টাইব্রেকারে। তারকাখচিত দলে এক সঙ্গে খেলেছিলেন মনোরঞ্জন, সুব্রত, তরুণ দে। সুব্রতকে খেলাতে গিয়ে তরুণকে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে খেলাতে হয় অমল দত্তকে। কিন্তু নতুন পশিশনে তরুণ ব্যর্থ হন। এরপর সুব্রতকে বসিয়ে মনোরঞ্জন-তরুণ জুটিকে স্টপারে খেলান অমল দত্ত। তখন কিন্তু মানে ১৯৮৬-তে অমল কিন্তু ছিলেন মোহনবাগানের কোচ। তাঁর এই দুঃসাহসের পিছনে নেপথ্য সাহস জুগিয়েছিলেন প্রদ্যুত দত্ত।

পরের বছর সন্তোষ ট্রফির আসর বসেছিল কলকাতায়। বাংলাই চ্যাম্পিয়ন হয় ফাইনালে রেলওয়েজকে ২-০ হারিয়ে। পরের বছর সন্তোষ ট্রফির আসর বসেছিল কেরলের ক্যান্নানোরে। এবারে কোচ করলেন প্রদীপ ব্যানার্জিকে। একমাত্র তাঁর আমলেই বাংলার কোচ হয়েছেন পি কে-অমল। সেবার বাংলাকে টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য গড়াপেটা খেলে বিহার ও কর্নাটক। বাংলার ফুটবলাররা মূখে কালো রুমাল পরে প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন প্রদীপ ব্যানার্জিও। পুলিশের লাঠি খেতে হয় তাঁদের। এ নিয়ে প্রদ্যুতবাবু কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রতিবাদ পৌঁছে দিয়েছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী অজিত পাঁজার মাধ্যমে। তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি। ফুটবল ম্যাচের রেজাল্ট পাল্টানো যায় না। এটা জেনেও প্রদ্যুতবাবুর লড়াই সেদিন ভারতীয় ফুটবলকে নাড়া দিয়েছিল।

(৩)

প্রশাসক হিসেবে এমন কয়েকটি কাজ করে গেছেন যা তার আগে অথবা পরে কেউ করে দেখানো তো দূরে থাক, কল্পনাও করতে পারেনি। যেমন ১৯৮৬ সালে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রায়শই অসভ্যতা করছিল। মানে আইএফএ-কে থোড়াই কেয়ার করা। প্রদ্যুতবাবু সব দেখছিলেন। মহামেডান ভেবেছিল তাদের পিছনে সংখ্যালঘু জনসমর্থনকে ভয় পাবেন প্রদ্যুতবাবু। ভুল ভেবেছিলেন কর্তারা। প্রথম ডিভিশন এ গ্রুপ থেকে থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল মহমেডানকে। সাতাশি সালে বি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আবার ১৯৮৮ সালে মহমেডান এ গ্রুপে ফিরে আসে।

১৯৮৯ সালে সুব্রত ভট্টাচার্য এরিয়ান ম্যাচে রেফারি প্রদীপ নাগকে মারধর করেছিলেন। মোহনবাগান ক্লাবের সচিব তখন ধীরেন দে, যাঁর সঙ্গে প্রদ্যুতবাবুর সম্পর্ক ছিল খুব ভাল। নানা মহল থেকে সুব্রতকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ যায় আইএফএ সচিবের কাছে। সাসপেন্ড হয়ে যান সুব্রত। জরিমানা হয় ৫০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত সেই জরিমানা জমা দিয়ে মাঠে ঢোকার ছাড়পত্র পান সুব্রত। তবে এর পর ১৯৯১ সালে সুব্রতকে পি এস ভি আইন্দওভেন বিরুদ্ধে টাটার সুপার সকারে আইএফএ-র অধিনায়ক করেছিলেন। পরের বছরই অর্জুন পুরস্কার পান সুব্রত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী। প্রদ্যুতবাবুর খুব কাছের মানুষ ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কাছে সুব্রতকে অর্জুন পুরস্কার দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন প্রদ্যুতবাবুই। না করেননি মমতা।

আইএফএ সচিব হওয়ার পর থেকেই প্রদ্যুতবাবু স্বপ্ন দেখা শুরু করলেন, অল ইন্ডিয়া ফেডারেশনের সচিব হবেন। তখন খলিফা জিয়াউদ্দিন জমানার শেষ দিক। সচিব অশোক ঘোষ। ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বর। নির্বাচন মুম্বইয়ে। তার অনেক আগে থেকেই পূর্বাঞ্চলের দশটি রাজ্যকে নিয়ে কলকাতার শিশির মঞ্চে সভা করেছেন প্রদ্যুতবাবু। তাঁর সভাপতি ক্যান্ডিডেট ছিলেন সন্তোষমোহন দেব। তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রাক্তন জাতীয় রেফারি। ও দিকে তখনকার অন্যতম সহ সভাপতি প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিও সভাপতি হতে চান। ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল যে লড়াইটা দুই বঙ্গসন্তানের মধ্যে। প্রদ্যুত দত্ত বনাম প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি। প্রিয়বাবুর সচিব পদপ্রার্থী ছিলেন কেরলের পি পি লক্ষ্মণ।

দু পক্ষই কোমর বেঁধে লড়াই করার রসদ নিয়ে পৌঁছে গেল মুম্বই। কিন্তু শেষ পর্বে মাস্টারস্ট্রোকটা দিলেন প্রিয়রঞ্জন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী তখন রাজীব গান্ধী। তাঁর দুই মন্ত্রীর লড়াইয়ে রাজীব সমর্থন করলেন প্রিয়কে। নির্বাচনের আগের দিন রাজীবের প্রতিনিধি হয়ে রাজস্থানের সাংসদ রামনিবাস মির্ধা মুম্বই পৌঁছে সন্তোষমোহনকে রাজীবের বার্তা দিলেন। দুই কংগ্রেস মন্ত্রীর লড়াই চান না রাজীব। সন্তোষমোহন যেন নিজেকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেন। বিনা ভোটে প্রিয়রঞ্জন সভাপতি এবং লক্ষ্মণ সচিব হয়ে গেলেন। ভগ্ন-মনোরথ হয়ে ফিরে এলেন প্রদ্যুত দত্ত।

এর পর অবশ্য প্রদ্যুতবাবু আর ফেডারেশনের নির্বাচনে দাঁড়াননি। তবে অষ্টাশির নির্বাচনে এই ধাক্কা থেকে তিনি অনেক শিক্ষা নিয়েছিলেন। তবে যে কোনও কারণেই হোক প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির সঙ্গে সম্পর্কটা আর সহজ হয়নি। দুজনেই বাঙালি। দুজনেই দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। প্রদ্যুতবাবুর অপূর্ব মিত্র লেনের বাড়ি থেকে প্রিয়বাবুর রানী ভবানী রোডের বাড়ি আর কত দূর? পাথর ছোড়া দুরত্ব। কিন্তু সেই দুরত্ব ঘোচাবার উদ্যোগ নেননি কেউই।

তবে এর পর প্রদ্যুতবাবু আইএফএ নিয়েই পড়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের আইএফএ শতবর্ষটা খুবই ঘটা করে করেছিলেন। শতবর্ষ উৎসব উপলক্ষে সারা কলকাতা জুড়ে মিছিল হয়েছিল। ময়দানে আইএফএ-র মাঠে বিশাল মঞ্চ হয়েছিল ফুটবলের আদলে। করেছিলেন মন্টু সাহা। আর শতবর্ষ উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে প্রত্যেক ডিভিশনের জন্য ছিল আলাদা আলাদা টুর্নামেন্ট। সুপার ডিভিশনের জন্য ছিল শিবদাস ভাদুড়ি ট্রফি। এফসিআই-কে ৫-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মোহনবাগান।

সব মিলিয়ে আপাদমস্তক স্বপ্নবিলাসী মানুষ ছিলেন প্রদ্যুত দত্ত। নিজের সম্পর্কে বলতেন,

‘‘আমি বেদুইন,
আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া
কাহারে করি না কুর্নিশ।’’

কাউকে কুর্নিশ না করেই একটু অকালেই চলে গেছেন প্রদ্যুত দত্ত। স্বপ্নগুলোকে সফল না করেই। তাঁর মৃত্যুর পর কেটে গেছে আরও প্রায় ২৯ বছর। বাংলার ফুটবল পেয়েছে আরও সচিব। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর ভাবমূর্তি কেউ নষ্ট করতে পারেনি, পারবেও না। তিনি রয়ে গেছেন একমেবাদ্বিতীয়ম।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com