(মোহনবাগান ক্লাবের সভাপতি)
আইএফএ-র সচিব প্রদ্যুত দত্ত সম্পর্কে কলম ধরতে গেলে কত স্মৃতি মনের কোণে ভিড় করে আসছে। প্রদ্যুতদাকে আমি একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেই মনে রাখব আজীবন।
আইএফএ-র সচিব প্রদ্যুত দত্ত অকালেই আমাদের ছেড়ে চলে যান। আমি মোটামুটিভাবে নব্বইয়ের শুরু থেকে মোহনবাগান ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বে আসি। সুতরাং একজন প্রশাসক এবং একজন ক্লাবকর্তা হিসেবে প্রদ্যুতদার সঙ্গে আমার সম্পর্কের সময়কালটা বছর চারেকের। তবে, যখন ময়দানে, মোহনবাগান গ্যালারিতে বসে আমি আর অঞ্জন (অঞ্জনকুমার মিত্র, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, সদ্য প্রয়াত) খেলা দেখতাম, তখন থেকেই ময়দানের বিখ্যাত দত্ত পরিবার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলাম। বিশ্বনাথ দত্তকে তো জানতামই, প্রদ্যুত দত্তর কথাও একটু-আধটু শুনেছিলাম।
আইএফএ-র সচিব প্রদ্যুত দত্ত অকালেই আমাদের ছেড়ে চলে যান। আমি মোটামুটিভাবে নব্বইয়ের শুরু থেকে মোহনবাগান ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বে আসি। সুতরাং একজন প্রশাসক এবং একজন ক্লাবকর্তা হিসেবে প্রদ্যুতদার সঙ্গে আমার সম্পর্কের সময়কালটা বছর চারেকের। তবে, যখন ময়দানে, মোহনবাগান গ্যালারিতে বসে আমি আর অঞ্জন (অঞ্জনকুমার মিত্র, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, সদ্য প্রয়াত) খেলা দেখতাম, তখন থেকেই ময়দানের বিখ্যাত দত্ত পরিবার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলাম। বিশ্বনাথ দত্তকে তো জানতামই, প্রদ্যুত দত্তর কথাও একটু-আধটু শুনেছিলাম।
আর একবার প্রদ্যুতদার দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় পেয়েছিলাম একটি সবুজ বাঁচাও আন্দোলন নিয়ে। কলকাতার একজন বড় ব্যবসায়ী রবীন্দ্রসরোবরে একটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক করতে চাইছিলেন। তখনকার কংগ্রেস নেত্রী, এখন তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবীন্দ্রসরোবরকে বাঁচাতে হবে, এই অঙ্গীকার নিয়ে গড়ে তুললেন এক আন্দোলন - সবুজ বাঁচাও আন্দোলন। প্রদ্যুতদা, তখনকার আইএফএ সচিব ঝাঁপিয়ে পড়লেন এই আন্দোলনে। প্রধান সংগঠক হিসাবে তিনি ময়দানে নামলেন। সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় সমেত দক্ষিণ কলকাতার ফুটবলারদের একই ছাতার নিচে জড়ো করলেন প্রদ্যুতদা। তাঁদের আন্দোলন এত তীব্র হল যে, এই প্রকল্প পরিত্যক্ত হল। ওই সময় প্রদ্যুতদার সঙ্গে দু’-একবার কথা হয়েছিল। আমি সেই সময় দেখেছিলাম, এক অনমনীয় চরিত্রকে। যিনি তাঁর ধারণা এবং আদর্শে অবিচলিত থাকাটাই শ্রেষ্ঠ পথ বলে মনে করেন। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব দ্বিতীয় ডিভিশনে অবনমনে বাধ্য করেছিলেন তদানীন্তন আইএফএ সচিব প্রদ্যুত দত্ত। গোটা কলকাতা বিক্ষোভে অচল হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপন্ন হয়েছিল, কিন্তু অটল ছিলেন প্রদ্যুতদা। কোনও অনুরোধ-উপরোধেই তিনি কান দেননি। আমার তখন মনে হয়েছিল - প্রশাসকের বোধহয় এইরকমই হওয়া উচিত।
কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাঁর ‘জেদ’-এর অবশ্য ব্যাকফায়ার হয়েছিল। যেমন নেহরু কাপ কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা। শুনেছি সেইসময় আইএফএ দেনার দায়ে ডুবে গিয়েছিল। আইএফএ অফিস পর্যন্ত ব্যাঙ্কের কাছে বন্ধক রাখতে হয়েছিল। হয়তো সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল না। কিন্তু অ্যাডভেঞ্চারের একটা গন্ধ ছিল। আমার আবার সাহসী মানুষদের বেশি পছন্দ হয়। প্রদ্যুতদা সেইরকম সাহসী ছিলেন, যিনি ঝুঁকি নিতে পিছপা হতেন না। ঈশ্বর তো সাহসীদেরই সহায়ক হন। প্রদ্যুতদা যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন।