রেফারিরা ভরসা পেতেন

চিত্তদাস মজুমদার

(আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রেফারি)

একজন দক্ষ প্রশাসক এবং সংগঠক হিসাবে প্রদ্যুত দত্ত-র নাম সবাই মনে রাখবেন। এ ব্যাপারে নিশ্চয়ই অনেকে লিখেছেন। আইএফএ পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে কোনও রকম চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। একথা নিশ্চয়ই নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

সেক্ষেত্রে আমি একজন রেফারি হিসাবে তাঁকে যে রকম দেখেছি কিছু ঘটনা এখানে তুলে ধরছি। একটা ফুটবল দলে যে রকম তরুণ ফুটবলারদের তুলে ধরার জন্য ক্লাবের কর্মকর্তাদের বড় ভূমিকা থাকে, সে রকম রেফারিদের তুলে আনার জন্য ভূমিকা থাকে রেফারি সংস্থা এবং নিয়ামক সংস্থার। প্রদ্যুতদা ছিলেন এযনই একজন সচিব। তিনি আমাদের মতো জুনিয়র রেফারিদের উঠে আসার ক্ষেত্রে সব সময়ই পাশে থেকেছেন, ভরসা দিয়েছেন। তিনি এমনই একজন দক্ষ প্রশাসক ছিলেন যে জন্য তাঁর আমলে রেফারিরা বড় দলের বিপক্ষেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করতেন না। এ ব্যাপারে আমি ব্যক্তিগত জীবনে একটা ঘটনার কথা তুলে ধরছি।

কলকাতা লিগে মোহনবাগান বনাম জর্জ টেলিগ্রাফ ম্যাচে মাঠে মারপিট করার জন্য দুই দলের দু-জন ফুটবলারকে খেলা চলাকালীন ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছিলাম। আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি জর্জ টেলিগ্রাফের তৎকালীন কোচ ক্যাপ্টেন ঘোষ (সুমিত)। ম্যাচ শেষে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কী করে পরের ম্যাচে পোস্টিং পাও আমি দেখব।’ সেদিন অনেকেই আমাকে ভয় দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘একদিকে মোহনবাগানের মতো বড় দল, অন্যদিকে আইএফএ সচিবের নিজের ক্লাব জর্জ টেলিগ্রাফ। অতটা কঠোর না হলেও পারতে।’ সত্যি বলছি পরে আমিও একটু ভয় পেয়েছিলাম।

কলকাতা লিগে মোহনবাগান বনাম জর্জ টেলিগ্রাফ ম্যাচে মাঠে মারপিট করার জন্য দুই দলের দু-জন ফুটবলারকে খেলা চলাকালীন ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছিলাম। আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি জর্জ টেলিগ্রাফের তৎকালীন কোচ ক্যাপ্টেন ঘোষ (সুমিত)। ম্যাচ শেষে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুমি কী করে পরের ম্যাচে পোস্টিং পাও আমি দেখব।’ সেদিন অনেকেই আমাকে ভয় দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘একদিকে মোহনবাগানের মতো বড় দল, অন্যদিকে আইএফএ সচিবের নিজের ক্লাব জর্জ টেলিগ্রাফ। অতটা কঠোর না হলেও পারতে।’ সত্যি বলছি পরে আমিও একটু ভয় পেয়েছিলাম।

প্রদ্যুতদা আমার কাছে ‘ভগবানের’ মতো। দীর্ঘ রেফারিং জীবনে তাঁর কাছ থেকে যে রকম সহযোগিতা পেয়েছি সে কথা মাথায় রেখেই বলছি তিনি সহযোগিতা না করলে আমি ‘ফিফা’ ব্যাজ অর্জন করতে পারতাম না। ১৯৯১ সালে জার্মানি, ইন্দো-জার্মান celebration ম্যাচ, ১৯৯২ ন্যাশনাল, ১৯৯০ ফিফা, ১৯৮৯ শিল্ড ফাইনাল। তিনি একজন বড় মাপের সংগঠক, দক্ষ প্রশাসক ছিলেন, একথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। আইএফএ পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি কোনওরকম বেনিয়ম বা অন্যায় বরদাস্ত করতেন না।

ফুটবলে আমাকে নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন। আইএফএ-র তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা রঞ্জিত গুপ্ত সিল করা একটা খাম আমার হাতে ধরিয়ে প্রদ্যুতদার সঙ্গে দেখা করতে বলেছিলেন। ৩০ জন ফুটবলারের নাম সেই তালিকায় ছিল। আমি তো এরকম একটা দায়িত্ব পেয়ে অবাক। প্রদ্যুতদার সঙ্গে দেখা করলে বলেছিলেন, ‘নির্বাচক কমিটির সদস্যদের মধ্যে একটা ক্লাবপ্রীতি থাকতেই পারে। নিজেদের দলের ফুটবলারদের প্রতি তাঁদের দুর্বলতা থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে একজন রেফারি নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।’ সেই হিসাবেই আমাকে কমিটিতে নিয়েছিলেন। একজন রেফারি হিসাবে কলকাতা লিগে ফুটবলারদের পারফরমেন্স যাচাই করার সুযোগ থাকে। সেই হিসাবে আমার উপর ভরসা রেখেছিলেন। প্রসঙ্গত আমি যে ২৫ জনের নাম বেছে নিয়েছিলাম তারাই দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য বাংলা সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

ফুটবলে আমাকে নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন। আইএফএ-র তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা রঞ্জিত গুপ্ত সিল করা একটা খাম আমার হাতে ধরিয়ে প্রদ্যুতদার সঙ্গে দেখা করতে বলেছিলেন। ৩০ জন ফুটবলারের নাম সেই তালিকায় ছিল। আমি তো এরকম একটা দায়িত্ব পেয়ে অবাক। প্রদ্যুতদার সঙ্গে দেখা করলে বলেছিলেন, ‘নির্বাচক কমিটির সদস্যদের মধ্যে একটা ক্লাবপ্রীতি থাকতেই পারে। নিজেদের দলের ফুটবলারদের প্রতি তাঁদের দুর্বলতা থাকাটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে একজন রেফারি নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে।’ সেই হিসাবেই আমাকে কমিটিতে নিয়েছিলেন। একজন রেফারি হিসাবে কলকাতা লিগে ফুটবলারদের পারফরমেন্স যাচাই করার সুযোগ থাকে। সেই হিসাবে আমার উপর ভরসা রেখেছিলেন। প্রসঙ্গত আমি যে ২৫ জনের নাম বেছে নিয়েছিলাম তারাই দলে সুযোগ পেয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য বাংলা সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com