অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেননি

প্রদীপ বসু

(বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক)

একজন দক্ষ প্রশাসক এবং প্রবল ব্যক্তিত্ববান হিসাবে ভারতীয় ফুটবলে যাঁদের নাম প্রথম সারিতে আসবে তাঁদের মধ্যে প্রদ্যুত কুমার দত্ত অন্যতম। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব কাছে থেকে তাঁকে দেখেছি। আইএফএ-তে কাজ করার সুযোগও পেয়েছি, সেই হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি গত ৩০ বছরে ফুটবলে প্রদ্যুত দত্ত এবং ক্রিকেটে জগমোহন ডালমিয়ার মতো প্রবল ব্যক্তিত্ববান কর্মকর্তা আর কাউকে দেখিনি।

লেখাটা যেহেতু প্রদ্যুত দত্তকে নিয়ে, কেন তাঁকে সবার উপরে রাখলাম, সেই বিশ্লেষণটাই করছি। তিনি ছিলেন প্রবল ব্যক্তিত্ববান। কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। কোনও রকম অনৈতিক কাজকে প্রশ্রয় দেননি। সেই কারণে অনেক সময়ই বিতর্ক হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রবল চাপও এসেছে। কিন্তু কখনোই পিছু হটেননি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই চারিত্রিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন।

তাঁর কাছে সবসময়ই অগ্রাধিকার পেত বাংলার ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা আইএফএ-র সম্মান। এ ব্যাপারে বাধা বিপত্তি এলেও কখনো লক্ষ্যচ্যুত হননি। ১৯৮৫ সালে প্রথম আইএফএ-র সচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। যতদিন জীবিত ছিলেন আইএফএ সচিবের চেয়ারটাকে উচ্চাসনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য লক্ষ্যে স্থির থেকেছেন। পাশাপাশি বাংলার ফুটবল যাতে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেজন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন।

১৯৮৫ সালে যখন আইএফএ সচিবের চেয়ারে বসলেন তখন সংস্থার আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না। প্রথমেই আর্থিক দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য ‘ডোনারস্ মেম্বারশিপ’ কার্ড চালু করে পরিস্থিতি অনেকটাই সামলে নিয়েছেন।

কখনোই বেনিয়ম পছন্দ করতেন না। কোনও ক্লাব যদি আইএফএ-র নিয়ম লঙ্ঘন করার চেষ্টা করত তখন হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতেন না। সেই সব ক্ষেত্রে সব সময়ই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করতেন না।

১৯৮৬ সাল থেকে তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসক হিসাবে দক্ষতার পরিচয় বেশ কয়েক বার খুব কাছে থেকে লক্ষ্য করেছি। ১৯৮৬ সালে মহমেডান ক্লাবের মতো প্রবল পরাক্রমশালী দলকে সাসপেন্ড করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তার পরিচয় দেখিয়েছেন। সেই সময় রাজ্যপাল নুরুল হাসানের মতো ব্যক্তিত্ববান প্রশাসকের অনুরোধেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। কারণ তাঁর কাছে সবার আগে গুরুত্ব পেত আইএফএ-র সম্মান। সচিবের চেয়ারের মর্যাদা বজায় রাখা।

১৯৮৬ সাল থেকে তাঁর প্রবল ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসক হিসাবে দক্ষতার পরিচয় বেশ কয়েক বার খুব কাছে থেকে লক্ষ্য করেছি। ১৯৮৬ সালে মহমেডান ক্লাবের মতো প্রবল পরাক্রমশালী দলকে সাসপেন্ড করার ক্ষেত্রে দৃঢ়তার পরিচয় দেখিয়েছেন। সেই সময় রাজ্যপাল নুরুল হাসানের মতো ব্যক্তিত্ববান প্রশাসকের অনুরোধেও তিনি সিদ্ধান্ত বদলাননি। কারণ তাঁর কাছে সবার আগে গুরুত্ব পেত আইএফএ-র সম্মান। সচিবের চেয়ারের মর্যাদা বজায় রাখা।

তবে ব্যাপারটা খুব সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি প্রদ্যুতবাবু। যাঁদের গাফিলতিতে সাব-কমিটির সিদ্ধান্ত মর্যাদা পেল না তাঁদের বিপক্ষেও শাস্তিমূলক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হননি। কারণ, মোহনবাগান ক্লাবকে চিঠি পাঠাবার দায়িত্ব যাঁদের তাঁরা এই ব্যাপারে গাফিলতি দেখিয়েছিলেন। এটা এক ধরনের নাশকতাই বলতে হবে।

আইএফএ সচিব হিসাবে তাঁর বিশাল অবদান হল ১৯৮৮ সালে শিলিগুড়িতে অষ্টম জওহরলাল নেহরু গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন। কলকাতা শহরের বাইরে জেলার মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছিলেন। শুধু আয়োজনই নয়, সফলও হয়েছিলেন। সেই সময় অনেকরকম বাধা এসেছিল। অনেকেই অসহযোগিতা করেছেন। নানারকম চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তবু অবিচল থেকেছেন। সেই সময় আরও একটি মারাত্মক ঘটনা বলতেই হবে, তাহল অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নাশকতা। যে পরিমাণ অর্থ বিজ্ঞাপন থেকে এসেছিল সেই অর্থ টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে পৌঁছয়নি। অর্থ এজেন্সি মারফত নগদে নিয়েছিলেন আইএফএ-র তৎকালীন এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা। প্রদ্যুতবাবুকে সব দিক থেকে হেনস্থা করার জন্য একটা চক্র তখন সক্রিয় ছিল। শিলিগুড়িতে নেহরু কাপ আয়োজনকে ব্যর্থ করা, আর্থিক দিক থেকে আইএফএ-কে ধাক্কা দেওয়াই ছিল সেই চক্রের লক্ষ্য। সেই সময়েও প্রদ্যুতবাবুর চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে বিস্মিত হয়েছি। আসলে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট হল, সবরকম বাধা বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।

আইএফএ সচিব হিসাবে তাঁর বিশাল অবদান হল ১৯৮৮ সালে শিলিগুড়িতে অষ্টম জওহরলাল নেহরু গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন। কলকাতা শহরের বাইরে জেলার মাঠে আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের দুঃসাহস তিনি দেখিয়েছিলেন। শুধু আয়োজনই নয়, সফলও হয়েছিলেন। সেই সময় অনেকরকম বাধা এসেছিল। অনেকেই অসহযোগিতা করেছেন। নানারকম চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তবু অবিচল থেকেছেন। সেই সময় আরও একটি মারাত্মক ঘটনা বলতেই হবে, তাহল অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে নাশকতা। যে পরিমাণ অর্থ বিজ্ঞাপন থেকে এসেছিল সেই অর্থ টুর্নামেন্ট কমিটির কাছে পৌঁছয়নি। অর্থ এজেন্সি মারফত নগদে নিয়েছিলেন আইএফএ-র তৎকালীন এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা। প্রদ্যুতবাবুকে সব দিক থেকে হেনস্থা করার জন্য একটা চক্র তখন সক্রিয় ছিল। শিলিগুড়িতে নেহরু কাপ আয়োজনকে ব্যর্থ করা, আর্থিক দিক থেকে আইএফএ-কে ধাক্কা দেওয়াই ছিল সেই চক্রের লক্ষ্য। সেই সময়েও প্রদ্যুতবাবুর চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখে বিস্মিত হয়েছি। আসলে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট হল, সবরকম বাধা বিপত্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।

কলকাতায় মহিলা ফুটবল লিগও চালু করেছিলেন তিনি। সেটাও ১৯৯৩ সালে। তার আগে বাংলার মহিলা ফুটবল দল গঠন করেছিলেন প্রদীপ ব্যানার্জির সহধর্মিনী প্রয়াত আরতি ব্যানার্জি। খ্যাতনামা ফুটবল প্রশিক্ষক প্রয়াত সুশীল ভট্টাচার্যর তত্ত্বাবধানে বাংলা দল জাতীয় ফুটবলে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এমনকী আন্তর্জাতিক আসরেও দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিল। কিন্তু ঘরোয়া কোনও প্রতিযোগিতা তখন ছিল না। এই ব্যাপারেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রদ্যুত দত্ত। আইএফএ.-র পরিচালনায় শুরু করেছিলেন মহিলা ফুটবল লিগ। ১৯৯৩ সালে বাংলায় মহিলা ফুটবলের প্রবর্তক আরতি ব্যানার্জিকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়েই শুরু হয়েছিল মহিলা ফুটবল লিগ।

নার্সারি ফুটবল লিগের পুনরুত্থান হয়েছিল প্রদ্যুত দত্ত-র হাত ধরেই। ১৯৭৮-৭৯ সালে এই লিগ চালু হলেও দু-তিন বছর বাদেই বন্ধ হয়ে যায়। সেই লিগ এক দশক বাদে আবার চালু করেছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে তাঁর ধ্যানজ্ঞান ছিল বাংলার ফুটবলের উন্নয়ন। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলার একটা অত্যাধুনিক মানের ফুটবল আকাদেমি। এ ব্যাপারে রাজারহাটে স্থান নির্বাচনের কাজও অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু অকালেই ইহলোক ত্যাগ করায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করে যেতে পারেননি।

তবে আরও এমন কিছু কাজ করে গেছেন সেগুলো চিরদিন মনে রাখার মতো। যেমন আইএফএ-র শতবর্ষে গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ময়দানে আইএফএ-র মাঠ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সেই শোভাযাত্রায় অনেক বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদের সঙ্গে বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের পাশাপাশি বিশাল সংখ্যক ফুটবলপ্রেমী জনতা হেঁটেছিলেন।

১৯৯১ সালে ফেডারেশন কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল কলকাতায়। ১১ বছর বাদে দায়িত্ব পেয়েছিল আইএফএ। সেই প্রতিযোগিতাও সার্বিক সফল হয়েছিল প্রদ্যুত দত্ত-র তত্ত্বাবধানে। প্রসঙ্গত সেবার প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী ম্যাচের দিন তিনি সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীকে। প্রসঙ্গত ১৯৮৮ সালে শিলিগুড়িতে ফেডারেশন কাপ চলাকালীন বিতর্ক হয়েছিল সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে। প্রদ্যুতবাবু এমনই একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি কখনও কোনও বিতর্ক মনে রাখতেন না। তাঁর যতসব বিতর্ক হয়েছে আই.এফ.এ-র সম্মান বজায় রাখার জন্য। এই প্রসঙ্গে যে কথাটি বলতেই হয় তাহল বিতর্কটা হয়েছিল কোনও একটি সংবাদপত্রে তাঁর একটি লেখাকে কেন্দ্র করে। একটা সময় যখন চারিদিক থেকে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল তখন বীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি তৎকালীন ফুটবল ফেডারেশন এবং রাজ্য সরকারের উপর কিছু ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কথাগুলো যখন বলছিলেন তখন আমরা কয়েকজন ছাড়া মাত্র একজন ক্রীড়া সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। কথাগুলো আমাদের মধ্যে আলোচনার পর্যায়ে ছিল। কোনও খবরের কাগজে ছাপার জন্য নয়। সেই সাংবাদিকও আমাদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক ঘটনা হল তিনি খবরের কাগজে প্রদ্যুত দত্ত-র নামে সেই কথাগুলো ছাপিয়ে দিয়েছিলেন। সেখানেই সূত্রপাত বিতর্কের। এরকম একটা বিতর্কিত লেখার পরও প্রদ্যুত দত্ত কিন্তু সেই সাংবাদিককে বিপদে ফেলেন নি। অন্য কোনও সচিব হলেই ওই ব্যাপারে ‘আমি বলিনি’ বলে সেই সাংবাদিককে বিপদে ফেলে দিতেন। এই জায়গাতেই ব্যতিক্রম প্রদ্যুত দত্ত।

শতবর্ষ উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ইডেন উদ্যানে একটা আকর্ষণীয় ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করেছিলেন। বাংলার ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা তার আগে বা পরবর্তীকালে এরকম একটা ক্রিকেট ম্যাচ কখনো আয়োজন করেছে বলে মনে হয় না।

আগেই বলেছি কখনও কোনওরকম অন্যায় বা বেনিয়মকে তিনি বরদাস্ত করেননি। পাশাপাশি কোনও অনৈতিক আবদারকেও প্রশ্রয় দেয়নি। এ ব্যাপারে তাঁর খুব কাছের মানুষও সুবিধা নিতে পারেননি। একটা ব্যাপারে আমি খুব কাছে থেকেই তাঁর সততার প্রমাণ পেয়েছি। ঘটনাটি ১৯৯৩ সালে সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা দল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। প্রদ্যুতবাবুর কাছের লোক হাওড়ার একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা বাংলা দলে একজন ফুটবলারকে দলে নেওয়ার জন্য হাওড়া স্টেশনে তাকে পাঠিয়েছিলেন। সেবারে সন্তোষ ট্রফির খেলা হয়েছিল কোচিতে। করমন্ডল এক্সপ্রেসে বাংলা দলের ফুটরলাররা যাবে। সেই ফুটবলারটিও যথা সময়ে হাজির হয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। হাওড়ার সেই কর্মকর্তার ধারণা ছিল তাঁর পাঠানো ফুটবলারকে কোনোমতে ফেরাতে পারবেন না বাংলা দলের কোচ বা ম্যানেজার। এরকম একটা কিছু অপচেষ্টা হতে পারে আন্দাজ করেছিলেন প্রদ্যুতবাবু। তাই বাংলা দল ট্রেনে ওঠার অগেই হাজির হয়েছিলেন হাওড়া স্টেশনে। স্টেশনে পৌঁছেই কোচ সুভাষ ভৌমিককে পরিষ্কারই নির্দেশ দিয়েছিলেন নির্বাচিত ফুটবলারদের বাইরে কাউকে দলে নেওয়া যাবে না।

১৯৮৮ সালে সেই নেহরু কাপের পর একটা সময় খুবই সঙ্কটে পড়েছিলেন। আইএফএ পরিচালনার ক্ষেত্রেও অনেক রকম বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সেই সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অজিত সেনগুপ্ত। অজিত সেনগুপ্তকে আইএফএ-র সভাপতির চেয়ারে বসিয়েছিলেন। সেই সময় অজিত সেনগুপ্ত আই.এফ.এ. পরিচালনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিলেন। অজিতবাবুও ছিলেন যথার্থই একজন ফুটবলপ্রেমী এবং অবশ্যই দক্ষ প্রশাসক। তাঁরা দু-জনই ছিলেন ফুটবলে নিবেদিত প্রশাসক। আজও মনে পড়ছে সেই দিনটির কথা যেদিন সিআরএ তাঁবুতে প্রদ্যুত দত্ত-র স্মরণ সভায় অজিত সেনগুপ্ত শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে গিয়ে বলেছিলেন ‘আমি একজন পরিবারের সদস্যকে হারালাম। এই ক্ষতি কোনোদিনই পূরণ হবে না।’

কারণ প্রদ্যুত দত্ত-র কাছে গোটা আইএফএটাই ছিল একটা পরিবার। সংস্থায় একাত্মতা বজায় রাখার জন্য অনেক সময়ই ‘পিকনিক’ আয়োজন করেছেন। সেখানে প্রাণখুলে সবাই আনন্দ করতেন। তিনি নিজেও খুব আমুদে মানুষ ছিলেন।

১৯৮৯ সালে ফুটবল ফেডারেশনের সচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেও পরে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ যাঁরা তাঁকে এগিয়ে দিয়েছিলেন পরবর্তীতে তাঁরাই সরে দাঁড়িয়েছেন। এই ব্যাপারে দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি প্রদ্যুত দত্ত যদি ফুটবল ফেডারেশনের সচিব হতে পারতেন তাহলে বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলের খোলনলচেই বদলে যেত। জগমোহন ডালমিয়া যেমন ভারতীয় ক্রিকেটকে উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন। প্রদ্যুতবাবুও ভারতীয় ফুটবলে অন্য মাত্রা এনে দিতে পারতেন।

আমাকে এবং আইএফএ-র প্রাক্তন সচিব রঞ্জিত গুপ্তকে তিনি বিশ্বাস করতেন। রঞ্জিত গুপ্ত আগে থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ১৯৮৩ সাল থেকে আমিও তাঁর বিশ্বাসভাজন হতে পেরেছিলাম। এরকম মহান সচিবের সঙ্গী হতে পেরেছিলাম বলে আজও গর্ববোধ করি। শুধু আমরা কেন, যাঁরা একবার তাঁর সান্নিধ্য পেয়েছেন তাঁরা কোনওদিন ভুলতে পারবেন না।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com