সৃষ্টির সেদিন থেকেই
কলকাতা তুমি ছিলে
জলে অথবা জঙ্গলে।
ধীরে ধীরে সব কিছু দুরে ঠেলে
আমরা তোমার কাছে এলাম।
পূর্বপুরুষের পদ চিহ্নে
তোমার গভীর প্রেম পেলাম।
তোমাকে সাজালাম, নানান সাজ সরঞ্জামে।
নিত্য নতুন অলংকরণে।
আধুনিক আরো আধুনিক
রূপে-রসে-রঙে তিলে তিলে।
তোমাকে ঘিরে গর্বিত হলাম।
গর্বিত হল আমাদের সত্তা ও অহংকার।
তোমার যৌবন-ভার-অবনত দেহ
তিন তিনটে শতবর্ষ পার করে
আজও অনন্যা।
তবু মনে হয়,
একী তোমার যৌবন উত্তরণের পূর্বমুহুর্ত?
অথবা, সমস্ত সুন্দর মুহুর্তের উত্তরণের সময় এখন!
দিনের আলোয় ভাল করে চোখ চেয়ে দেখি,
তোমার সৌন্দর্য আক্রান্ত কয়েকটি বলিরেখায়,
অথবা, আমাদেরই স্বার্থপর নখের আঁচড়ে
ভয়াবহ কয়েকটি ক্ষতস্থানে ফুটে ওঠে
সরাসরি আমাদেরই মুখ।
কত রাত কত দিন বিশ্রামবিহীন,
ক্লান্ত করে রেখেছি তোমায়।
অগোচরে, তুমি হয়েছ উপেক্ষিতা।
জগৎ সভার জমাট আসরে,
তুমি দিন দিন দীপ্তিহীন, ক্ষীণ হয়ে আছ।
তোমার অনাদর অনাদৃত করেছে, আমাদের,
তাই কি রাতারাতি ফেরাতে চেয়েছি দৃষ্টিকোণ;
তোমার আকাশে-বাতাসে-পাতালে,
সাবধানী প্লাস্টিক সার্জারির সংযোজন বিভাজন
সযত্নে বাইপাস দিয়ে রক্ত সঞ্চালন,
কথা দাও,
তুমি আবার সুস্থ হয়ে আসবে ফিরে,
আর একবার দেবে অধিকার-
তোমাকে নতুন করে সাজাবার।
আরও অনেক শতসহস্র বর্ষ ধরে,
কথা দাও,
কলকাতা তুমি থাকবে,
থাকবে কল্লোলিনী হয়ে।