কবি

চলেছি যে পথে আমি,

সেথায় কার পদচিহ্ন, হয়নি ক আঁকা।

এ পথ নতুন আমার,

অজানা পরিবেশে, বিচিত্র আঁকাবাঁকা।

তরুণেরা মালা হাতে
চলেছে ফাগুন সাথে

আগুনের পরশেতে বিগলিত শতচিত্র

ধারা,

আমি কবি, পথহারা পথিকের মত

নিত্যনতুন পথে হই দিশেহারা।

আধারের বুক চিরে,
আশার আলোক ঘিরে,

আমার কঠিন পথে বাড়ে জটিলতা।

আলোকের সন্ধানে, নিরালার অন্ধকারে,

জীবনের ছিন্নতার গাহে নীরবতা।

নীড়হারা ক্লান্ত বিহদের মত শ্রান্তডাল

ঝাপটে ঝাপটে,

চলেছি এ পথে আমি নাজানিরে

শেষে মোর, কী আছে যে ঘটে।

ওরে পাখি! কোথা যাস এই অনন্ত পথে

হারায়েরে নীড়?

পাখি তবু নিরুত্তর, আমি শুধু চেয়ে থাকি

নীরব স্থবির।

বুঝেছি, বুঝেছি পাখি,

এপথ তোমার আমার,
নেই কোন তাপ পরিতাপ,

তুমি পাখি নীড় হারা,
আমি কবি পথ হারা,

অনন্তে দিয়েছি দোহে ঝাঁপ।

বিজনে কূজন নাই,
আমরা দুজনে ভাই,

দুজনেই দুজনার সাথী।

হারায়েছি ঘর বাড়ি,
পুরাতন পথ ছাড়ি,

হয়েছি দুজনে আত্মঘাতী।

তবুও বিপথে মোর, আছে সুখ,

আছে কিছু নতুন ভাবনা।

হয়ত নিজেরে আমি -
হয়েএ বিপথগামী,

করেছি কামনা।

ঐ বিহঙ্গ জানি, ডানার শক্তি হলে শেষ

এই রাতে আসবে সে ফিরে,

তবুও পেয়েছে স্বাদ হারিয়ে যাবার আজ

আমারি মতন ঘুরে ফিরে।

এ জীবন তুচ্ছনা, তুচ্ছ নয় তাপ পরিতাপ,
তবুও কেমনে করি, তুচ্ছ এই

হারিয়ে যাবার অভিশাপ।

যদি ফিরি রিক্ত হয়ে, সর্বহারা

দিগন্তের শেষে,

ঐ বিহঙ্গেরি মত, ক্লান্ত, শ্রান্ত,

দীন বেশে।

তবু ভাল, পেয়েছি ত এ জীবনে,

হারাবার মত আকাশ,

চিরদিন রবে সাথী, আর বন্দি রয়ে যাই

এ আকাশ বাতাস।

ধীর পদ--- জাত্তার্ন ভারে

ঈষৎ সে অবনত দেহ, কোন এক সুবিশাল পারস্য প্রাসাদ পাড়ে, অলিন্দে কর বিচরন, ঠিক সেই আগের মতন।

সংসার আসর জেনে, শুরালয়ে একমনে, তুমি যেন বিপুল ভাষে করিছ প্রচার।

আয় মোরা এ জীবনে ছ দিনের মৌতা টেনে, চলে যাই মিথ্যে মায়া কাটিয়ে হেমায়।

যদি কেহ বলে পাপ নেই কোন পরিতাপ, নেই কোন ভয়, পাপ তবে হবে তার যে জন সৃজিল সরা, সুন্দরী নারী, মানবের বিচিত্র মন সর্বোপরি।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com