আমরা বাঙালি, আমরা বাঙালি,
বাংলা মোদের প্রিয়।
নিস্পেষণের রুদ্র চক্রে
আমরা যে ক্ষত্রিয়।
অসনি অশির ঘাতে,
মোদের নিলয়, লন্ড ভন্ড
স্বাধীনতার ঐ প্রাতে।
করকাল হাতে, করতাল নিয়ে,
দুর্গম গিরি পথে,
কান্তার মরু, সিন্ধু বিদিত,
ভ্রমি মোরা জয় রথে।
সৌদামিনীর ইঙ্গিতে ঐ
বুঝেছি রে নাহি ভয়,
সুতাশয়ন তেজে আমরা পুরাব
জীবনের সংশয়।
উদাটি পরিছে বিটপীর দল,
তাপখান নাহি সয়রে।
আজ মোদের, অন্তর হীনা,
আয়তোরা সবে আয়ত্বে।
নাহি নাহি আর ভয়,
শুরধনী সুধা অঙ্গেলেগেছে,
সুরে মোরা নিশ্চয়।
আয় মোরা সবে আমুরে বাধিয়া
সুর পুবে করিগান,
চৈরণ দন্তে দংশন করি
অরাতিরে করি নাশ।
আমরা ছিলাম সার্থ ত্যাগের
নির্ভয় পরিচয়
সে ক্ষত বক্ষে কাঁচা রক্তের
গাছ হয়নি লয়।
বসুহীন আজো, বাসহীন মোরা,
পদে পদে সংশয়,
যাদের লাগিয়া তারা আজ করে
আমাদেরি অপচয়।
শতলা শতলা আয়
নিজেরাই লব এবার নিজের
ক্ষুধা তৃষ্ণার ভার।
হে বিধাতা তুমি, দেখিয়াছ জানি,
এদের অত্যাচার,
বাংলার ব্যাথা হৃদয় বিদারি
করিতেছে হাহাকারে।
ঘরে ঘরে আজ চাল নাই,
নাই চাল বা আচ্ছাদন,
সকলি দিয়াছি আর কত দিব
গৃহখান ধন জল।
যাদের নয়নে ছিল শুধু জল,
পাষানে চাপাল বুক,
সে হতভাগার, ফিরেছে চেতনা,
খুলেছে নীরব মুখ।
এবার বুঝিবা সহ্যের সীমা
ঘটাবে বিস্ফোরণ,
সুপ্ত বীরের জানবেনা বুঝি
টলবে সিংহাসন।
ঐ সপিল যুদ্ধ যাত্রী
সর্ব্বনাশার গুরু গুরু নামে
গুমরি উঠেছে রাত্রি।
অভিশাপের ঐ নিঃশ্বাস বেয়ে
নেমে আসে পরে ছায়া,
এই বাংলার বিপ্লবী বীর
অশরীরী যত কায়া
মোদের শেলিতে, তাদের শেলিতে,
মিলেমিশে একাকার,
বিদ্রোহী বীর, উন্নতশির,
বিদ্যুৎ তলোয়ার।
দাঁড়ায়েছে তারা, বক্ষে বেদনা
বাঙ্গালীর অপমান,
নিরক্ষিতে শুধু , কেমনে ঘুচাতে
বাঙ্গাল সন্তান।
কাহির কালী, অশনি আঁধারে,
লিখেছে মোদের নাম,
আজিকার রনে, জিতি আর হারি,
দিয়ে শক্ত তারি দাম ।
চীনের প্রান্তে বেজেছে কখন
যুদ্ধের রণ ভেরী,
তাইত ভ্রাতার লোভাতুর মন
ভারত সীমানা হেরি,
চেয়ে দেখ ঐ কঙ্গোর পানে
ভাইয়ে ভাইয়ে লড়ে ওরা,
চেয়ে দেখ ঐ আসামী দাড়ায়ে
মেরেছে সে সহদোরা।
আফ্রিকা ঐ মারখেয়ে মরে
নিদারুণ আক্রোশে,
সভ্য জগৎ ফেলে নিঃশ্বাস
অসহায় আফশোষে,
ঘরে ঘরে চলে বাক বিতন্ডা,
ঘরে ঘরে চুলো চুলি
সর্ব্বনাশীর ভীষণা মুর্ত্তি
তেরে আসে মুঠি তুলি।
তোমরা বন্ধু পেয়েছ যখন
বিশ্বনেতার স্থান,
লওগো ডাকিয়া সবারে বক্ষে
গাও হে মিলন গান।
তোমরা দেখাও ত্যাগের মহিমা
শান্তির ধূপছায়া।