(কনিষ্ঠ পুত্র)
বর্তমানে আমি জর্জের মেন ক্যাম্পাস শিয়ালদায় বসছি। এখানকার আশপাশের অনেক মানুষ এখনো বাবাকে ভুলতে পারেননি। এক ডাকে চেনেন গলির মানুষজন। এটাও বলেন যে তাঁর কাছে পাড়ার অনেক সমস্যা নিয়ে মাঝে মধ্যে যেতেন। চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যেও তাঁদের প্রত্যেকের কথা শুনে সেই সমস্যার সমাধান করতেন। স্মৃতিশক্তি এতটাই প্রখর ছিল যে বছর ঘুরে গেলেও হয়তো কোনদিন দেখা হলে ঠিক মনে করে একবার জিজ্ঞাসা করে নিতেন, কোনও অসুবিধা হচ্ছে না তো? হলে জানাবেন ‘কিন্তু’। তাই ছোটবেলা থেকে এই জনসংযোগের ফলেই হয়তো বাবা এখন পাশে না থেকেও আজও প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের মধ্যে বিরাজমান। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হোক বা ময়দান, প্রত্যেকটা জায়গার উনি স্মৃতিগুলো রেখে গেছেন। একটা কথা আছে না যে, মানুষ থাকে না শুধু রয়ে যায় তাঁর কাজ। আমার বাবা এই কথাটার উদাহরণ। মানুষটি চলে যাওয়ার পরেও তাঁর কাজগুলো মানুষের মনের মণিকোঠায় আজও থেকে গিয়েছে। আমরা যে এখন আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এত রকমের বিষয় পড়াশোনা করাচ্ছি তারও বীজ বপন করেছিলেন তিনি।
যুগোপযোগী কোর্সের পরিবর্তন করেছেন এবং এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে জর্জকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা সেটা তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত এবং সেই জন্যেই তাঁকে জর্জের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। একটা মানুষ দীর্ঘদিন যেরকম দক্ষ ক্রীড়া-প্রশাসক হিসেবে ময়দান সামলেছেন ঠিক সেরকম সকলের প্রিয় রেজিস্ট্রার হিসেবে জর্জ টেলিগ্রাফকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন। ভোজন রসিক, আড্ডা প্রেমী যেরকম ছিলেন সেরকম ছিলেন একজন কর্মযোগীও। বাবার কাজের পরিধি এতটাই যে স্বপ্নের মধ্যেও সেই কাজগুলো আমাকে প্রতিনিয়ত সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে। আমার দাদাকেও দেখছি বাবার পথ অনুসরণ করেই কাজ করতে। যে ব্যপ্তিতে আমার বাবা নিজের কাজগুলো করে গেছেন এবং আমার দাদা বর্তমানে সেভাবেই কাজ করে চলেছেন। মনে হয় এদের কাজের সামান্য অংশ করতে পারলেও আমি নিজেকে ধন্য বলে মনে করব।
বাবা প্রয়াত হয়েছেন ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর। আমার বয়স তখন মাত্র ৯ বছর। তাই বাবার কর্মকাণ্ড বোঝার মতো বুদ্ধি তখন আমার ছিল না। তবে দেখতাম নিচের অফিস ঘরে অনেকেই আসতেন। তাঁদের আলোচনা বোঝার ক্ষমতা ছিল না। দীর্ঘকায় স্বাস্থ্যবান বাবার জীবনটাই গল্পের মতো। খুবই অল্প সময়ে কাছে পেলেও নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আমি ছোটবেলায় একটু চঞ্চল ছিলাম। তাই একটু সুযোগ পেলেই অফিস ঘরে ছুটে যেতাম। তারপর বাবা যখন অফিসে যেতেন তখন একটু মন খারাপ হত। কখন ফিরবেন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম। দুষ্টু ছিলাম। তবু কখনও গায়ে হাত দিতেন না।