জর্জ জিতলে রোল খাওয়াতেন

অতীন দত্ত

(ভাইপো)

ভবানীপুরে ৩১এ, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোডের বাড়িতে যারা কখনও গেছেন তাঁদের নিশ্চয়ই মনে আছে বাড়িতে ঢোকার পথেই ছিল কংক্রিটের বিশাল উঠান। আয়তনে বেশ বড় ছিল বলে ওই উঠানে বন্ধুদের নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই আমি ফুটবল বা ক্রিকেট খেলতাম। এই ব্যাপারে মদত দিতেন আমাদের সবার প্রিয় ছোট কাকা - প্রদ্যুত কুমার দত্ত।

আমাদের মনের মতো ছিলেন তিনি। উঠানের পাশেই ছিল বিশাল ড্রইংরুম। আমরা যখন খেলতাম তখন ড্রইংরুমের সব জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে বলতেন ছোট কাকা।

খেলার সময়ে ছোট কাকা আমাদের সঙ্গে থাকতেন। নিজে খেলতেন না। আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতেন। গাইড করতেন। এককথায় কোচের ভূমিকা পালন করতেন। অর্থাৎ আমাদের খেলার ব্যাপারে বড় ভরসা ছিলেন ছোট কাকা।

বাড়ির পূর্বদিকে নীচের তলায় থাকতেন জর্জ টেলিগ্রাফের বেশ কয়েকজন ফুটবলার। বিভু চক্রবর্তী, শিবব্রত নাথ, বিপ্লব মজুমদার সেখানে থাকতেন। তাঁরা মাঝেমধ্যে আমাদের খেলা শেখাতেন। যা দেখতে মাঝেমধ্যে রাস্তায় ভিড় জমে যেত। বিভু চক্রবর্তী অনেক সময় বলতেন ‘আমাকে কাটিয়ে যাও দেখি।’ ছোট কাকা তখন দোতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতেন। আমরা কখনও সফল হলে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে সজোরে বলতেন, ‘দারুণ, দারুণ।’ বিভুদা ক্রিকেটও খেলতেন। আমাদের হাতে ধরে খেলা শেখাতেন। কোনও ভাল শট নিলে বা বল করলে উৎসাহিত করার জন্য বলতেন - ‘নাইস, বিউটিফুল।’

সারাক্ষণ বইয়ের সামনে বসে থাকা তিনি পছন্দ করতেন না। খেলাধুলা, শরীরচর্চা করলে শরীর ও মন ভাল থাকে। তখন লেখাপড়াতেও ‘এনার্জি’ আসে। ছোট কাকার জীবনদর্শন ছিল এরকম। মানুষের জীবন হল খেলার মাঠের মতো। ছোট কাকার সৌজন্যে আমাদের গোটা পরিবারটি হয়ে গিয়েছিল খেলার মাঠ। সেই সূত্রে ফুটবলাররাও আমাদের পারিবারিক সদস্য হয়ে গিয়েছিলেন।

ময়দানে প্রথম খেলা দেখতে গিয়েছিলাম ছোট কাকার সঙ্গে। খেলা অবশ্যই ছিল জর্জ টেলিগ্রাফের। জর্জ জিতলে ফেরার পথে নিজামের রোল খাওয়াতেন। জিততে না পারলে মন ভাল থাকত না। তখন আর নিজামের রোল নয়। হেস্টিংসের হনুমান মন্দিরের পাশের দোকান থেকে ছোলা খেয়ে ঘরে ফিরতে হত।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com