(আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রাক্তন ফুটবলার)
খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আমি কয়েকটা বছর কোচিং করিয়েছি। সেক্ষেত্রে কোচিংজীবনে আমার সেরা সাফল্য অবশ্যই ১৯৮৯ সালে বাংলা দলের কোচ হিসাবে সন্তোষ ট্রফি জয়। দীর্ঘ ৪ বছর বাদে বাংলা সেবার ভিনরাজ্যের মাঠ থেকে সন্তোষ ট্রফি অর্থাৎ জাতীয় ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই হিসাবে আমি একটা আলাদা তৃপ্তি পাচ্ছি দীর্ঘ ৩৪ বছর বাদে আজও। আর এই ব্যাপারে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব আইএফএ-র তৎকালীন সচিব প্রদ্যুত দত্তর কাছে।
সেবার সন্তোষ ট্রফির আসর বসেছিল আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য আসামের রাজধানী গৌহাটীতে। কোচিং সিলেকশন কমিটিতে আমার নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রবল সমর্থন ছিল প্রদ্যুতদার। দল নিয়ে আলোচনার জন্য তাঁর দপ্তরে আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। সেদিন কয়েকটা ব্যাপারে আমার মতামত তাঁকে জানিয়েছিলাম। আমি এমন একটা দল চেয়েছিলাম যারা বাংলার হয়ে ‘অল আউট’ ঝাঁপাবে। সেক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন তৎকালীন তারকা আমার পছন্দের তালিকায় ছিল না। যতদূর মনে পড়ছে আমার তালিকায় এমন চার-পাঁচজনের নাম ছিল যারা তখন দুরন্ত ফর্মে। তাদের নাম বাদ কেন জানতে চেয়েছিলেন প্রদ্যুতদা। আমি তখন কোন রকম রাখঢাক না রেখেই কারণটা বলেছিলাম। কারণ একটাই। সেরা ফর্মে থাকলেও অনেক সময় তাদের খেলতে অনীহা। যা নাকি দলগত সংহতি গড়ার ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয় নয়। আমি দেখলাম সচিব হিসাবে তিনিও আমার কথাকে গুরুত্ব দিলেন। সবচেয়ে বড় কথা ব্যাপারগুলো তিনিও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে জানতেন। শুধু একজনের নাম তিনি মেনে নিতে পারেননি। বলেছিলেন, এই বিশেষ ফুটবলারটি আমার দলে দরকার। তোমাকে সব সময় সহযোগিতা করবে। পরবর্তীতে দেখলাম তাঁর কথাটা ১০০ শতাংশ সঠিক। সেই ফুটবলারটির নাম অবশ্য লেখার মাধ্যমে জানাচ্ছি না। তবে যে কথা অবশ্যই বলতে হয় তাহল প্রদ্যুত দার দূরদর্শিতা। তিনি কোনও বড় দলের কর্মকর্তা না হয়েও প্রতিটি ফুটবলার সম্পর্কে খবর রাখতেন। রাজ্য দলের জার্সি গায়ে কে কতটা নিজের সেরাটা উজার করে দেবেন তিনি বুঝতেন।
আর একটা গুরুত্বপূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ম্যানেজার নির্বাচনের ক্ষেত্রে। সেবারে বাংলা দলের ম্যানেজার ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন অধিনায়ক চন্দন ব্যানার্জি। ১৯৬৬ সালে কলকাতায় প্রথম যখন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে এসেছিলাম সে বছর অধিনায়ক ছিলেন চন্দনদা। দলে একাত্মতা আনার ব্যাপারে চন্দনদার আন্তরিকতা প্রথম বছরেই বুঝতে পেরেছিলাম। আমার ফুটবলজীবনে এটা একটা বড় প্রাপ্তি। চন্দনদা হলেন ফুটবলারদের ‘মাইডিয়ার পার্সন’। স্বভাবতই সেবারের দলে একাত্মতা আনার কাজটা অনেকটাই সহজ হয়েছিল আমার পক্ষে।
বলতে দ্বিধা নেই ১৯৮১ সালের পর ভিন রাজ্যের মাঠে বাংলা আর সন্তোষ ট্রফি জেতেনি বলে আমাদের দলে মানসিক একটা চাপ সবসময়ই ছিল। ব্যাপারটা সচিব হিসাবে তিনিও উপলব্ধি করেছেন। তাই একটা দল গঠন করে পাঠিয়েই চুপচাপ কলকাতায় বসে থাকেননি। গোটা দলকে চাঙ্গা রাখতে এখান থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। শানুদা (শান্ত মিত্র), সুভাষ ভৌমিক প্রতিযোগিতা চলাকালীন গৌহাটি গিয়ে ফুটবলারদের উৎসাহিত করেছেন।
বলতে দ্বিধা নেই ১৯৮১ সালের পর ভিন রাজ্যের মাঠে বাংলা আর সন্তোষ ট্রফি জেতেনি বলে আমাদের দলে মানসিক একটা চাপ সবসময়ই ছিল। ব্যাপারটা সচিব হিসাবে তিনিও উপলব্ধি করেছেন। তাই একটা দল গঠন করে পাঠিয়েই চুপচাপ কলকাতায় বসে থাকেননি। গোটা দলকে চাঙ্গা রাখতে এখান থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। শানুদা (শান্ত মিত্র), সুভাষ ভৌমিক প্রতিযোগিতা চলাকালীন গৌহাটি গিয়ে ফুটবলারদের উৎসাহিত করেছেন।
তিনি এতটাই দূরদর্শী ছিলেন যে জন্য বাংলায় একটা ফুটবল অ্যাকাডেমির জন্যও সচেষ্ট ছিলেন। ভবিষ্যতে বাংলার ফুটবলকে মাথা উঁচু করে চলতে গেলে একটা ফুটবল অ্যাকাডেমি অত্যন্ত জরুরি। ব্যাপারটা যে কতটা জরুরি সেটা গত কয়েক বছর ধরে আমরা বুঝতে পারছি। কিন্তু দূর্ভাগ্য তাঁর স্বপ্ন সফল করতে পারলেন না। অকালেই চলে গেলেন।