আস্থা অর্জন করেছিলাম

দিলীপ নারায়ণ সাহা

(আইএফএ-র অন্যতম কর্মকর্তা)

প্রদ্যুত দত্ত সম্পর্কে লেখার জন্য যখন অনির্বাণ (প্রদ্যুত দত্ত-র জ্যেষ্ঠ পুত্র) প্রস্তাব দিল তখন নিজেকে ধন্য মনে করেছিলাম। তাঁর মতো একজন প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, নির্ভীক, সৎ, মানুষকে নিয়ে কিছু কথা বলতে পারব বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।

তাঁর সম্পর্কে কলম ধরার আগে শুরুতে কয়েকটা কথা বলতেই হবে। কথাটা হল ফুটবল। ছোটবেলা থেকেই আমি ফুটবল অনুরাগী। পরিষ্কারভাবে জানাতে দ্বিধা নেই ইস্টবেঙ্গলের অন্ধ সমর্থক। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের খেলা দেখতে ময়দানে ছুটে যেতাম। ক্লাবের ভিন রাজ্যের ফুটবলারদের মেস ছিল দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটে ডোভার লেনে। কৃষ্ণস্বামী কিট্টু, বালসুব্রামনিয়ম, ধনরাজ প্রমুখ তারকা ফুটবলার থাকতেন ডোভার লেনের মেসে। অনেক সময় তাঁদের কাছ থেকে ডে-স্লিপ নিয়ে খেলা দেখেছি। আবার ময়দানে লাইন দিয়েও টিকিট কেটেছি। বিশেষ করে মোহনবাগান এবং মহামেডানের বিপক্ষে চ্যারিটি ম্যাচে।

সেই সময় যে ক্লাবগুলো তিন বড় ক্লাবের রাতের ঘুম কেড়ে নিত যাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ছিল জর্জ টেলিগ্রাফ স্পোর্টস ক্লাব। ইস্টার্নরেল, এরিয়ান, রাজস্থান ক্লাবের মতো জর্জ টেলিগ্রাফকেও বলা হত ‘জায়ার্ক কিলার’। বড় তিন দলের কাছে জর্জ টেলিগ্রাফ ছিল শক্তবাঁধা।

জর্জ টেলিগ্রাফ হল প্রদ্যুত দত্তদের পারিবারিক ক্লাব। মেজদাদা বিশ্বনাথ দত্তর যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন প্রদ্যুত দত্ত। তাঁর কর্মকান্ড শুরু হয় ১৯৮৫ সাল থেকে। তবে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয় ষাটের দশকের শেষ দিকে। ১৯৮৭ সালে।

আমি তখন সুভাষদীপ ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। ক্লাবের কর্ণধার মণি রায় একদিন আমাকে ৪বি অপূর্ব মিত্র রোডে প্রদ্যুত দত্ত-র বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেই সময় কালীঘাট রোটারি ক্লাবের কিছু দায়িত্ব দিয়েছিলেন। মনে হয় রোটারি ক্লাবের কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর আস্থা অর্জন করতে পেরেছিলেন। মণিদা আমাকে আইএফএ-তে জড়িত হতে বলেছিলেন। আমি যেমন প্রদ্যুত দা-র আস্থা অর্জন করেছিলাম সেরকম তিনিও আমার শ্রদ্ধার পাত্র হয়েছিলেন। আমার বাবার পরে যে মানুষটিকে শ্রদ্ধা করতাম তিনি হলেন প্রদ্যুত। যা কয়েকটা কথা বলে প্রকাশ করা যাবে না।

তিনি ছিলেন কর্মযোগী। এককথায় কাজের মানুষ। একটা সময় অনেকে কালীঘাট রোটারি ক্লাব ছেড়ে অন্য একটি রোটারি ক্লাব গঠন করলেও আমি প্রদ্যুতদা-র সঙ্গ ছেড়ে যাইনি। ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ছিল না। খুব বেশিদিন তাঁর পাশে থাকার সুযোগ হয়নি। ১৪/১৫ বছর পাশে থেকে যতটুকু শিখেছি সংগঠক হিসাবে সেটাই আমার পাথেয়। আমার মতে তিনিই বড় সংগঠক যে ব্যক্তিকে আদর্শ করে উত্তরসূরি উঠে আসেন। প্রদ্যুতদা ছিলেন এরকমই একজন সংগঠক। তাঁকে আদর্শ করেই ভ্রাতৃসুলভ সুব্রত দত্ত এবং পুত্র অনির্বাণ দত্ত এখন জর্জ টেলিগ্রাফ এবং আইএফএ-তে সদর্পে বিচরণ করছেন। এদের কারোকেই কিন্তু প্রদ্যুত দত্ত হাতে ধরে চেয়ারে বসাননি। নিজেদের যোগ্যতাবলেই তাঁরা যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠেছেন। যে রকম তাঁর মেজদাদা বিশ্বনাথ দত্ত তাঁকে চেয়ারে বসাননি। নিজস্বতা না থাকলে কেউই চেয়ারে বসতে পারেন না।

তাঁর বড় গুণ বা বৈশিষ্ট্য ছিল হার-না-মানা মনোভাব। যত কঠিন কাজই হোক তিনি কখনও পিছিয়ে যেতেন না। একবারই তাঁকে সরে দাঁড়াতে দেখেছি সেটা এ আই এফ নির্বাচনে। সেক্ষেত্রে তিনি প্রবল চাপ এবং পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে আমি বাবার পরই যাঁকে শ্রদ্ধা করতাম তিনি হলেন প্রদ্যুত কুমার দত্ত।

Copyright Ⓒ Prodyutdutta.com